আর নয় ওষুধ-পথ্যের পেছনে দৌঁড়াদৌঁড়ি, দামে সস্তা ৩ ফলেই মিলবে পেটের স্বস্তি!

published : ১৪ মে ২০২৬

শরীরের আসল 'পাওয়ার হাউস' কোনটা জানেন? পেট! এই পেটের পীড়ায় ভোগে না এমন মানুষ বিরল। অথচ ওষুধ ও ডাক্তারের পেছনে কাড়ি কাড়ি টাকা না ঢেলে চিনে-জেনে দেশজ কিছু ফল খেয়েই আপনি ভালো রাখতে পারবেন আপনার পেট।

আজ জানব এমন ৩ ফল সম্পর্কে-

১: বেল

ফল থেকে ছাল- বেলের সবই ভেষজ গুণে ভরপুর। বিশেষত পাকস্থলীর সুস্থতায় বেল অনন্য, অনবদ্য!

বেলকে বলা হয় পাকস্থলীর ‘প্রাকৃতিক ঝাড়ুদার’; কারণ এতে থাকা মিউসিলেজ ও ফাইবার পাকস্থলীর দেয়ালে জমা ময়লা বা টক্সিন একদম ঝকঝকে করে পরিষ্কার করে দেয়। 

কষা বা কোষ্ঠকাঠিন্য কি আপনাকে ভোগায়? একে অবহেলা করবেন না। কারণ কোষ্ঠকাঠিন্য দীর্ঘদিন চলতে থাকলে তা রূপ নিতে পারে পাইলস, অ্যানাল ফিশার, রেকটাল প্রল্যাপসের মতো যন্ত্রণাদায়ক রোগে।

প্রতিকারে কী করবেন?

বেল খান! পাকা বেলের শাঁস মলকে নরম করে। টানা ৩ মাস বেলের শরবত খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য থাকবে না, বলে বলছেন পুষ্টিবিদেরা। 

গ্যাস্ট্রিক বা আলসার দূর করতে এবং হজমশক্তি বাড়াতেও বেলের শরবত অতুলনীয়।

অনেকে ভোগেন ক্রনিক ডায়রিয়ায়। একবার হলে সহজে সারতে চায় না। এক্ষেত্রে মোক্ষম দাওয়াই হলো বেল শুট। 

কাঁচা বেল স্লাইস করে কেটে রোদে শুকিয়ে নিন। তারপর তা গুঁড়ো করে ১ চামচ গুঁড়ো গুড় আর গরম পানিতে মিশিয়ে খান। দিনে দু বার করে এক সপ্তাহ খেলে ডায়রিয়ার উপশম হবে।  

বাজারে বেল ওঠে মার্চ থেকে জুন, মানে গ্রীষ্মকালে। দাম আকারভেদে ৪০ থেকে ৮০ টাকা। 

২: পেঁপে 

পুষ্টিগুণের কারণে পেঁপেকে বলা হয় ‘নিউট্রিশন পাওয়ারহাউজ’! পেটের সমস্যায় পেঁপে ফল না, যেন মেডিসিন!

পেঁপেতে আছে উন্নতমানের ফাইবার বা আঁশ, যা স্বাভাবিক মলত্যাগে সাহায্য করে কোষ্ঠকাঠিন্যে সারায়। অ্যাসিডিটি ও বদহজমের সমস্যা কমাতেও পেঁপের জুড়ি নেই। সকালে খালি পেটে পাকা পেঁপে খেলে শরীর থেকে টক্সিন দূর হবে, পাকস্থলী সুস্থ থাকবে এবং পেটের বিভিন্ন সমস্যাও দূর হবে।  

পাকা পেঁপে খেতে শুধু টেস্টিই না, এটি ন্যাচারাল হজমিও। কারণ পেঁপেতে আছে 'প্যাপাইন' (Papain)। প্রোটিন হজম করার ওস্তাদ এই এনজাইম! ভারি খাবার খাওয়ার পর পেঁপে খেলে প্যাপাইন এসে হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে দেয়।

পেঁপে পেট ফাঁপা ভাব কমায় এবং পাকস্থলীর প্রদাহ দূর করে পেটকে শান্ত রাখে।

পেঁপে প্রায় সারাবছরই পাওয়া যায়। তবে বেশি উৎপাদিত হয় মার্চ থেকে জুলাই, মানে গ্রীষ্মকালে। মৌসুমে প্রতি কেজি পাকা পেঁপে কিনতে পারবেন ৮০ থেকে ১২০ টাকায়।   

৩: কলা 

কলা পেটের জন্য এক দুর্দান্ত ‘ইনস্ট্যান্ট এনার্জি বুস্টার’। এর প্রধান অস্ত্র হলো 'পেকটিন' (Pectin) নামক ফাইবার। 

কলা একটি শক্তিশালী ‘প্রিবায়োটিক’- পেটের উপকারী ব্যাকটেরিয়াদের জন্য এটি এক রাজকীয় ভোজের মতো। এই ভালো ব্যাকটেরিয়াগুলো যত বাড়বে, আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তত শক্তিশালী হবে, পেটও ভালো থাকবে। 

ডায়েরিয়া বা লুজ মোশনের পর পেটকে আবার আগের অবস্থায় ফেরাতেও কলার জুড়ি নেই।

আয়ুর্বেদের সূত্রমতে, কলা খাওয়ার আদর্শ সময় সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে। এরপর না খাওয়াই উত্তম। 

কলাও সারাবছর পাওয়া যায়। তবে বেশি পাওয়া যায় জুন থেকে অক্টোবর এই সময়ে। দাম জাত ও আকারভেদে প্রতি ডজন ৬০ থেকে ১৫০ টাকা।  

শেষকথা

আসলে পেটকে ভালো রাখতে সবসময় দামী ওষুধের দরকার নেই; হাতের কাছের এই ৩টি ফলই যথেষ্ট। 

এছাড়াও, আর্টিকেলে বলা হয় নি এমন আরো অনেক উপকার রয়েছে এসব ফলের, যার জন্যে আপনি এগুলো খেতে পারেন। পেট ভালো থাকার পাশাপাশি বাড়বে সুস্থতা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।