
published : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
রাতজেগে সোশ্যাল মিডিয়া ব্রাউজ কিংবা সিনেমা দেখে ঘুমানোর পর বেলা করে ওঠা কিংবা ছুটির দিনে বাড়তি সময় বিছানায় গড়াগড়ি এখন অনেকের অভ্যাস। কিন্তু প্রকৃতির নিয়মই হলো ভোরের আলো ফুটতেই দিন শুরু করা, যার রয়েছে দেহমনের সুস্থতা, লেখাপড়া, ক্যারিয়ার ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রে উপকার।
আসুন জানি ভোরে ঘুম থেকে ওঠার ৫ অসাধারণ উপকারিতা সম্পর্কে:
‘ভোরের হাওয়া লক্ষ টাকার দাওয়া’ প্রবাদটি শুনেছেন না? কথাটি শতভাগ সত্য! কারণ ভোরের নির্মল বাতাসে থাকে সবচেয়ে বেশি অক্সিজেন। তাই ভোরে যারা ঘুম থেকে ওঠে তাদের শরীর ভালো থাকে, রোগব্যধি কম হয়।
তাছাড়া, ভোরে ঘুম থেকে উঠলে আপনি সহজেই ব্যায়ামের জন্যে সময় বের করতে পারবেন।
গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, সকালে ব্যায়াম করলে সারাদিন মেটাবলিজম বেশি থাকে, যার ফলে বেশি ক্যালরি বার্ন হয়। এছাড়াও সকালের সূর্যের আলো শরীরে ভিটামিন ডি তৈরি করে, যা হাড় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আর যারা নিয়মিত ভোরে ঘুম থেকে ওঠেন, তাদের ঘুমের প্যাটার্ন থাকে নিয়মিত। ফলে তারা রাতে গভীর এবং মানসম্মত ঘুম পান, যা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
ভোরে ঘুম থেকে ওঠে যারা তাদের মধ্যে ডিপ্রেশন ও এংজাইটি কম থাকে। কারণ ভোরের নির্মল বাতাসে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করলে মন শান্ত হয়।
হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিংয়ে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে ২০২১ সালে ৮ লক্ষ ৪০ হাজার মানুষের ওপর পরিচালিত একটি রিসার্চের বরাতে বলা হয়েছে, দেরিতে ঘুম থেকে ওঠে যারা, তাদের চেয়ে যারা অন্তত ১ ঘণ্টা আগে ওঠে তাদের ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ২৩ ভাগ কম!
ভোরের শান্ত সময়টা আপনার মনকে রিচার্জ করে, পজিটিভ এনার্জি দেয় এবং পুরো দিনের জন্য আপনাকে মানসিকভাবে করে তোলে প্রস্তুত।
ভোরবেলা মন সবচেয়ে শান্ত ও সক্রিয় এবং মস্তিষ্ক সবচেয়ে সতেজ ও ফোকাসড থাকে। রাতভর বিশ্রামের পর ভোরে ব্রেইন পাওয়ার থাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে। তাই এই সময়ে যদি আপনি দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ যেমন- পড়াশোনা, লেখালেখি, বা সৃজনশীল কাজ করেন তাহলে দেখবেন অল্প সময়ে অনেক বেশি কাজ হয়ে যাচ্ছে।
একারণে অনেক সফল উদ্যোক্তা এবং লেখক তাদের সবচেয়ে ক্রিয়েটিভ কাজগুলো ভোরেই করেন। মৃত্যুর একবছর আগেও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিদিন ভোর চারটায় ঘুম থেকে উঠতেন এবং অন্তত একপাতা না লিখে সকালের নাস্তা করতেন না।
ব্রেকফাস্ট হচ্ছে দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার। কিন্তু যারা দেরিতে ঘুম থেকে ওঠেন, তারা প্রায়ই নাস্তা স্কিপ করেন বা ফাস্টফুড খান যা সুস্বাস্থ্যের পথে অন্তরায়।
ভোরে উঠলে আপনি ধীরেসুস্থে পুষ্টিকর নাস্তা তৈরি এবং খেতে পারবেন। এতে সারাদিন আপনার এনার্জি লেভেল ভালো থাকবে এবং অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাকিং কম হবে।
আপনি কি জানেন সফল মানুষদের ৯০% ভাগই ভোরে ঘুম থেকে ওঠেন?
আসলে ভোরে ওঠা মানুষরা দিনের শুরুতেই এগিয়ে থাকে। কারণ এই সময়টাতে তারা যখন নিজের লক্ষ্য, কাজ বা পরিকল্পনায় মনোযোগ দিচ্ছে, পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ তখনও ঘুমাচ্ছে!
সকালে ১৫-২০ মিনিট সময় নিয়ে আপনি যদি আপনার দিনের কাজগুলো লিস্ট করেন, প্রায়োরিটি সেট করেন, তাহলে দেখবেন আপনার দিনটা অনেক বেশি গোছালো হয়ে যাচ্ছে।
১. ‘বেবি স্টেপ’
প্রতিদিন আপনার ৮/৯টায় ওঠার অভ্যাস; এই ভিডিওটি দেখে প্রথম দিনই ৫টায় উঠলেন- এটা করবেন না। কারণ অভ্যাসে রাতারাতি পরিবর্তন দেহমনের ওপর নেতিপ্রভাব ফেলবে। প্রতিদিন ১৫ মিনিট করে আগে উঠার চেষ্টা করুন, পরিবর্তনটা টেকসই হবে।
২. রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমান
আমাদের রোজ ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। ভোরে উঠতে হলে এই সময়টা মাথায় রেখে রাতে ঘুমাতে যান।
৩. রাতে স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহার করুন পরিমিত
স্মার্ট ডিভাইসের নীল আলো গভীর ঘুমে অন্তরায়; আর গভীর ঘুম না হলে সকালে ওঠা মুশকিল। তাই ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ইত্যাদি ডিজিটাল ডিভাইসকে বিদায় দিন।
৪. ‘যা ঘুম যা’ টেকনিক
ভোরে ঘুম ভাঙছে, কিন্তু আলসেমির কারণে উঠতে পারছেন না? সহজ সমাধান আছে!
মাথা থেকে বালিশটা সরিয়ে দিন। লম্বা দম নিন। এবার আঙুল দিয়ে নাক চেপে ধরুন। কিছুক্ষণ পর যখন মস্তিষ্কে অক্সিজেনের স্বল্পতা হবে তখন দেখবেন আপনি না উঠে পারছেনই না!