
published : ৮ জানুয়ারি ২০২৬
Artificial Intelligence বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সংক্ষেপে AI হলো এমন এক প্রযুক্তি, যা শুধু নির্দেশ পরিপালনই করে না—বরং শেখে, সিদ্ধান্ত নেয়, আর নিজেই নিজেকে বিকশিত করে। এটি এখন আর শুধু সায়েন্স ফিকশন নয়। এটি নীরবে বদলে দিচ্ছে আমাদের জীবন ও চেনা জগত।
চলুন জানি যে ৬ উপায়ে AI বদলে দিচ্ছে আপনার চেনা পৃথিবী
AI এখন ডাক্তার ও গবেষকদের শক্তিশালী সহযোগী; স্বাস্থ্যসেবা খাতে ভ্যালু অ্যাড করছে AI.
ম্যানুয়াল পদ্ধতির চেয়ে অনেক দ্রুত এবং সঠিকভাবে মেডিকেল ইমেজ বিশ্লেষণ করতে পারে ম্যাশিন লার্নিং এলগরিদম। গুগলের DeepMind এমন একটি AI সিস্টেম ডেভেলপ করেছে, যা 3D retinal scan বিশ্লেষণ করে নির্ভুলভাবে পঞ্চাশেরও বেশি চক্ষুরোগ শনাক্ত করতে পারে।
অনেক মেডিকেল সাইটে ঢুকলেই দেখবেন ঝট করে একটা চ্যাটবক্স ওপেন হয় আপনাকে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে সহায়তা করার জন্যে। এগুলো হচ্ছে AI-powered chatbot, যা রোগ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরদানের পাশাপাশি রোগীর চিকিৎসার অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে দেয়। হেলথকেয়ার কর্মীদের কর্মভার লাঘব করেছে এই chatbot.
বায়ো-ফার্মাসিউটিকেল কোম্পানি AstraZeneca MILTON নামে একটি ম্যাশিন লার্নিং রিসার্চ টুল তৈরি করেছে, যা ৫ লাখ মানুষের তথ্য ব্যবহার করে রোগ নির্ণয়ের আগেই এক হাজারেরও বেশি রোগের পূর্বাভাস দিতে সক্ষম হয়েছে। যা রোগনিরাময়ে এক মাইলফলক আবিষ্কার।
AI algorithm এখন ক্যান্সার, ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি এবং নিউরোলজিকাল ডিজ-অর্ডার নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে পারে। রোগের প্রারম্ভেই রোগনির্ণয় ত্বরান্বিত করেছে এসব রোগের চিকিৎসা।
বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও উদ্ভাবনকে ত্বরান্বিত করেছে AI; বিশালাকার তথ্যের মধ্য থেকে সহজেই প্যাটার্ন বের করতে পারে AI, যা মানুষের জন্যে খুবই জটিল।
প্রোটিন স্ট্রাকচার প্রেডিকশন- জীববিজ্ঞানের অর্ধশতাব্দি পুরনো এই সমস্যা সমাধানের জন্যে ২০২৪ সালে রসায়নে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পান Sir Demis Hassabis; Google DeepMind-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সিইও এই AI গবেষক সমস্যাটি সমাধান করেন AlphaFold AI software-এর মাধ্যমে।
Coscientist নামে একটি AI স্বতন্ত্রভাবে জটিল সব রাসায়নিক পরীক্ষার পরিকল্পনা ও সম্পাদন করতে পারে। এই AI ব্যাটারি, ওষুধ এবং ইলেক্ট্রনিকসের জন্যে নতুন উপাদান আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছে।
দ্রুত ও নিখুঁতভাবে আবহাওয়া পরিবর্তন অনুমানে জলবায়ু বিজ্ঞানীরা এখন ব্যবহার করছেন AI, যা সহায়তা করছে দুর্যোগ মোকাবেলার পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণে
যুক্তরাষ্ট্রের National Highway Traffic Safety Administration একটি রিপোর্টে বলেছে, ৯৪ শতাংশ মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে হিউম্যান এরর, মানে মানুবীয় ভুলত্রুটির কারণে। এসব দুর্ঘটনা বহুলাংশে কমাতে পারে AI নিয়ন্ত্রিত স্বয়ংক্রিয় যানবাহন। Tesla, Waymo এবং আরো কিছু প্রতিষ্ঠান এই প্রযুক্তি উদ্ভাবনে নেতৃত্ব দিচ্ছে। AI নিয়ন্ত্রিত স্ব-চালিত যানবাহন নিরাপদ যানচলাচলে ইতিমধ্যেই কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।
অনেক আধুনিক শহরের ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে AI-কে সন্নিবেশিত করা হয়েছে। যেমন- স্মার্ট ট্রাফিক লাইট- এটি AI অ্যালগরিদম ব্যবহার করে রিয়েল-টাইম ট্রাফিক পরিস্থিতির ভিত্তিতে ট্রাফিক সিগনালের সময় নির্ধারণ করে। এতে কমে যানজট, বাঁচে সময়।
অনেক দেশেই এখন কৃষকেরা AI-চালিত ড্রোনের মাধ্যমে শস্যের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ এবং সেচের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করেন।
IBM-এর Watson Decision Platform for Agriculture জলবায়ু ও মৃত্তিকা তথ্য পর্যালোচনা করে সেরা রোপন কৌশল সুপারিশ করতে পারে।
International Journal of Agricultural and Biological Engineering-এর গবেষণা নিশ্চিত করেছে যে, এসব AI টুল কৃষিজ উৎপাদন বাড়াতে পারে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ।
এছাড়া, সফলভাবে স্বয়ংক্রিয় ফসল কর্তন ও ফসল তোলা পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি কমাচ্ছে AI-powered robot.
আপনি নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন, অনলাইনে কোনো একটি পণ্যের বিজ্ঞাপন দেখার পর ঝাঁকে ঝাঁকে আপনার ফিডে আসতে থাকে একই বা কাছাকাছি পণ্যের অজস্র নোটিফিকেশন? কিছু কেনার উদ্দেশ্যে আমাজনের ওয়েবসাইটে ঢুকতেই দেখেন লাখ লাখ পণ্যের মধ্য থেকে আপনার কাঙ্ক্ষিত পণ্যের ছবিটাই স্ক্রিনে ভেসে উঠছে? ইউটিউবে কোনো একটি ভিডিও দেখার পর সাজেশনে আসতে থাকে একইরকম অজস্র ভিডিও?
কখনো কি ভেবে দেখেছেন, এরা কীভাবে আপনার মনস্তত্ব বুঝতে পারছে?
আসলে এই সবই AI এলগরিদমের কারসাজি! AI-powered recommendation system আপনার সার্চ হিস্ট্রি, বয়স, অবস্থান, জেন্ডার ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষণ করে সার্থকভাবে আপনার সামনে আপনার যাচিত জিনিসটির বিজ্ঞাপন দেখায়।
এতে বাড়ে গ্রাহকসন্তুষ্টি, প্রকারান্তরে বাড়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা।
এছাড়াও, বড় বড় প্রতিষ্ঠানের লাখ লাখ গ্রাহকের সেবা অনুসন্ধান ও তাৎক্ষণিক জবাব দানের মতো জটিল কাজগুলো অনায়াসে সামলাচ্ছে AI chatbots.
তবে AI যে কেবল কল্যাণই করছে তা নয়; প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইল, চুরি, ঘৃণাবিদ্বেষ ছড়ানোর মতো কাজেও ব্যবহৃত হচ্ছে এটি। বলা হয়ে থাকে, আপনি যদি AI কে আপনার ৩টি ছবি দেন, AI তা থেকে আপনার আস্ত ভিডিও বানিয়ে দিতে পারবে!
আসলেই আপনি সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন অনেক ভাইরাল ভিডিও দেখবেন, যেগুলো বিতর্ক, এমনকি সঙ্ঘাতেরও জন্ম দিচ্ছে, অথচ ভিডিওটি পুরোটাই AI দিয়ে বানানো!
সম্প্রতি Anthropic নির্মিত একটি নতুন AI model প্রতিষ্ঠানটির একজন ইঞ্জিনিয়ারকে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা করে যখন মডেলটি তার পাঠানো ই-মেইল পর্যালোচনা করে জানতে পারে যে তিনি এই মডেলকে সরিয়ে দেবার সুপারিশ করছেন!
AI-এর গডফাদার-খ্যাত Geoffrey Hinton সতর্ক করে বলেছেন, একজন প্রাপ্তবয়স্ক যেমন সহজেই একটি শিশুকে চকোলেট দিয়ে প্রলুব্ধ করে নিজের মতো কাজ করাতে পারে, তেমনি AI সিস্টেমও হয়ত ভবিষ্যতে মানবজাতিকে নিয়ন্ত্রণ করবে।
হিন্টনের মতে, আমাদের এমন AI বানাতে হবে, যাদের ভেতর থাকবে মানুষের প্রতি যত্ন ও ভালবাসা, অনেকটা সন্তানের প্রতি মায়ের ভালবাসার মতো।
এই সতর্কতাগুলো অনুসরণ করলে বহুলাংশেই নিরাপদ থাকবেন আপনি।