
published : ৩ নভেম্বর ২০২৬
ইদানিং কি আপনার মনে হচ্ছে, আগের মতো মনে থাকে না? এক বিষয়ে কিছুতেই দীর্ঘক্ষণ মনোযোগ থাকতে চায় না? মাথায় কেমন একটা আচ্ছন্নভাব কাজ করে, বোধহীন অসাড় লাগে নিজেকে?
এমন যদি অনুভূত হয় তাহলে সাবধান! দৈনন্দিন জীবনের ‘হার্মলেস’ অনেক কাজই আপনার ব্রেনের বিভিন্ন অংশকে নীরবে ধ্বংস করছে, যা আপনি টেরও পাচ্ছেন না।
আর্টিকেলটির ভিডিও এডাপ্টেশন দেখতে এই লিংকে ক্লিক করুন
জানুন এমন ৫টি কাজ এবং তা থেকে বেরিয়ে আসার উপায়ঃ
ব্রেনের জন্যে সবচেয়ে ক্ষতিকর হলো ঘুমের ঘাটতি। বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমানো দরকার।
আপনি কি এর চেয়ে কম ঘুমান? উত্তর যদি ‘হ্যাঁ’ হয় তাহলে কিন্তু আপনার ব্রেনের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে!
২০১৮ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ৭ ঘণ্টার কম ঘুমালে স্মৃতিশক্তি, যুক্তি বা বিচারবোধ ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা হ্রাস পায়। বাড়ে আলঝেইমারের ঝুঁকিও।
আসলে ঘুম হলো প্রকৃতির সবচেয়ে শক্তিশালী ওষুধ। সারাদিনে নানান কাজের ফলে ব্রেন সেলের যেসব ক্ষয়ক্ষতি হয় সেগুলো মেরামত হয় যখন আপনি ঘুমান। তাই ব্রেনকে কর্মক্ষম রাখতে চাইলে পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে। আর এর জন্যে ‘না’ বলতে হবে রাত জেগে কাজ, সোশ্যাল মিডিয়া, লেট নাইট শো- অর্থাৎ ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় এমন সব কাজকে।
দিনের অন্যান্য কাজের মতো এই ভিডিওটাও কি আপনি বসে দেখছেন? গবেষণা বলে, বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্করা দিনের প্রায় সাড়ে ৬ ঘণ্টা সময় বসে কাটায়। আর এই ‘চেয়ার টাইম’ মারাত্মক ক্ষতি করছে মস্তিষ্কের।
আমাদের ব্রেনে Medial Temporal Lobe নামে একটি অংশ আছে, যা নতুন স্মৃতি তৈরি করে। ২০১৮ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যত বেশি সময় বসে কাটানো হবে, তত পাতলা হবে ব্রেনের এই অংশটি। যার পরিণতি Cognitive Decline বা বোধশক্তির হ্রাস এবং স্মৃতিক্ষয়ী রোগ Dementia.
আর্টেমিস হাসপাতালের নিউরোসার্জন ডা. আদিত্য গুপ্ত বলেন, দীর্ঘসময় অলস শুয়েবসে কাটালে ব্রেন সঙ্কুচিত হয়ে যায়, শারীরিক ব্যয়ামও যা ঠিক করতে পারে না। তাই নিয়মিত ব্যয়াম করলেও দীর্ঘসময় শুয়েবসে যেন না থাকেন সেদিকে খেয়াল রাখুন।
ব্রেন সঠিকভাবে কাজ করার জন্যে শুধু পুষ্টিকর খাবারই না, চাই পর্যাপ্ত সূর্যালোকও। বেশি বেশি অন্ধকারে থাকলে আপনি বঞ্চিত হবেন প্রাকৃতিক আলো থেকে। এর পরিণাম বিষণ্ণতা ও তা থেকে ব্রেন ধীর হয়ে যাওয়া।
চিকেন ফ্রাই, চিপস, বার্গার ইত্যাদি জাংকফুড এবং চিনিযুক্ত খাবার ডায়াবেটিস ও মেদস্থূলতা ঘটায়, যা ক্ষতি করে ব্রেনের।
এছাড়া, যারা এসব বেশি বেশি খায় তাদের ব্রেনের সেই অংশটি ছোট হয়ে যায় যা শিক্ষণ, স্মৃতি ও মানসিক স্বাস্থ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট। তাই ব্রেনকে ঠিক রাখতে জাংকফুড ও চিনিযুক্ত খাবার ও পানীয় পুরোপুরি বর্জন করুন এবং পর্যাপ্ত খান প্রাকৃতিক খাবার- ফলমূল, শাকসবজি, শস্য, বিন, বাদাম ও বীজ।
ক্রনিক স্ট্রেস বা মানসিক চাপ ব্রেন সেল ধ্বংস এবং প্রি-ফ্রন্টাল কনটেক্সকে সঙ্কুচিত করে ফেলে। ফলে স্মৃতি ও শেখার ক্ষমতা হ্রাস পায়। ঘুম কমার দরুন বাড়ে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি। এজন্যেই দেখবেন, যারা চাকুরি, ব্যবসা বা সংসার নিয়ে বেশি বেশি টেনশন করে তারা অনেক কিছু আগের মতো মনে রাখতে পারে না।
জীবন থেকে স্ট্রেস হয়তো পুরোপুরি ঝেড়ে ফেলতে পারবেন না, তবে একে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন। আর এ-কাজে খুবই ফলপ্রসূ টেকনিক হলো ইয়োগা, ব্রিদিং এক্সারসাইজ ও মেডিটেশন।
আসলে ব্রেনই আপনার সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু; আপনার সকল অর্জনের হাতিয়ার এই ব্রেন। তাই ব্রেনের সুরক্ষায় ক্ষতিকর প্রতিটি কাজ এড়ানোই বুদ্ধিমত্তার লক্ষণ।