
published : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আর্টিকেলটির ভিডিও অ্যাডাপ্টেশন দেখতে এই লিংকে ক্লিক করুন
ভূমিকম্পে চারপাশটা হঠাৎ দুলে উঠলে মাথাসহ স্পর্শকাতর অঙ্গগুলোকে সুরক্ষিত রাখতে কী করবেন তা কি জানেন? জরুরি ফার্নিচারটাই যে বিপদ ঘটাবে না তা কি নিশ্চিত করেছেন? ধ্বংসস্তূপে আটকে গেলেই বা কীভাবে টিকে থাকবেন?
আজকের আর্টিকেলে জানবেন ভূমিকম্পে নিজেকে ও নিজের পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে করণীয়-বর্জনীয়গুলো।
ভূমিকম্প অনিবার্য হলেও কিছু প্রস্তুতি দিয়ে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা কমানো সম্ভব।
ঘরের আলমারি, কাপবোর্ড, পানির ট্যাংক, ইলেকট্রনিক্স জিনিসপত্র কি ঝাঁকুনিতে উল্টে কাউকে চাপা দিতে পারে? উত্তর ‘হ্যাঁ’ হলে এগুলোকে দেয়াল বা মেঝের সাথে আটকে রাখার ব্যবস্থা করুন। দেয়ালের তাক বা শেলফে ভুলেও ভারী জিনিস রাখবেন না।
একটি ফার্স্ট এইড বক্স প্রস্তুত রাখুন এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার নিয়ম শিখে নিন।
সম্ভব হলে ঘরে একটি ফায়ার এক্সটিংগুইশার রাখুন।
অতি প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো নিয়ে একটি ‘ইমার্জেন্সি কিট’ তৈরি করে হাতের কাছে রাখুন। যাতে থাকবে টর্চলাইট, হাতুড়ি, মাস্ক আর অন্তত ৩ দিন চলার মতো শুকনো খাবার ও পানি। একটি হুইসেল বা বাঁশিও রাখুন, যাতে আওয়াজ করে উদ্ধারকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেন। ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়লে এগুলো কাজে লাগবে।
ভূমিকম্পে অনেক মানুষ কীভাবে মারা যায় জানেন? ভবন ধসে নয়, বরং ভুলভাল কাজের কারণে! এক্ষেত্রে নিরাপদ থাকার সবচেয়ে বড় অস্ত্র শান্ত থাকা।
✅ভূমিকম্প সাধারণত খুব অল্প সময় স্থায়ী হয়, তাই আতঙ্কিত হয়ে ছুটোছুটি করবেন না। ঘরে থাকলে ঘরেই থাকুন, বাইরে থাকলে বাইরে!
✅Drop, Cover, and Hold on: বিশেষজ্ঞরা ভূমিকম্পে এই গোল্ডেন রুলটি মানার ব্যাপারে বিশেষ জোর দেন।
---Drop হলো হাত দিয়ে মাথা ঢেকে মাটিতে বসে পড়া
---Cover- শক্ত টেবিল বা খাটের নিচে আশ্রয় নেয়া এবং
---Hold on- টেবিল বা খাটের পায়া ধরে ভূমিকম্প শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানেই থাকা
✅বাইরে থাকলে: বহুতল ভবন, বিদ্যুতের খুঁটি, তার বা বড় গাছ থেকে দূরে কোনো ফাঁকা জায়গায় চলে যান।
✅গাড়িতে থাকলে: গাড়িটি নিরাপদ স্থানে থামিয়ে ভূমিকম্প শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেটার ভেতরেই থাকুন।
✅লিফট ব্যবহার করবেন না, জানালা, গ্যাস সিলিন্ডার বা মেইন সুইচের কাছাকাছি থাকবেন না
ঝাঁকুনি থেমে গেছে মানেই বিপদ পুরোপুরি কেটে গেছে? না! এরপরও কিছু সতর্কতা মানতে হবে:
✅ভূমিকম্পের পর সুনামির সম্ভাবনা থাকে। তাই যদি সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় থাকেন, তবে দ্রুত সৈকত থেকে দূরে উঁচু স্থানে চলে যান।
✅ঘরের গ্যাস, বিদ্যুৎ বা পানির লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিনা পরীক্ষা করুন। কোনো সমস্যা দেখলে মেইন কানেকশন বন্ধ করে দিন।
✅আগুন জ্বালাবেন না
✅গ্যাসের গন্ধ পেলে সব দরজা-জানালা খুলে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে যান।
নিরাপত্তার এই নিয়মগুলো পরিবারের অন্য সদস্যদেরও শিখিয়ে রাখুন। ভূমিকম্প শুরু হলে কী করবেন, কোথায় আশ্রয় নেবেন, ভূমিকম্প শেষে কোথায় একত্রিত হবেন ইত্যাদি নিয়ে বছরে এক-দুবার শিশুসহ পরিবারের সবাই মিলে এক মিনিটের ভূমিকম্প মহড়া করতে পারেন।
তবে সকল প্রস্তুতির পরেও বাস্তবতা- প্রকৃতির ওপর কারো হাত নেই! বালামুসিবতে সুরক্ষাদানের চূড়ান্ত এখতিয়ার পরম প্রভুই রাখেন। তাই ভূমিকম্পপ্রবণ এই সময়ে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি প্রয়োজন মহান সৃষ্টিকর্তার দয়া ও আশ্রয় লাভ।
আমরা এখন ভূমিকম্পসহ সকল বালামুসিবত থেকে সুরক্ষিত থাকার জন্যে প্রতিদিন খতমে জামালি নামে আধঘণ্টার একটি সম্মিলিত দোয়া করছি। আপনিও করতে পারেন সপরিবারে এক বা দুই বেলা।
প্রতিদিনের খতমে জামালি অডিও পাবেন এই ওয়েব পেজে : https://quantummethod.org.bd/bn/khatme-jamali
সেই সাথে সামর্থ্য অনুযায়ী অংশ নিন ‘জান-ই সদকা’ বা বিশেষ দানে।
অনলাইনে দান করুন : https://donate.quantummethod.org.bd/bn
আসলে ভূমিকম্প নিয়ে আতঙ্ক কোনো সমাধান নয়। প্রয়োজন সঠিক প্রস্তুতি এবং স্রষ্টার নিরাপত্তা লাভের চেষ্টা। এই দুইয়ের শক্তিতে ইনশা’আল্লাহ আমরা সুরক্ষিত থাকব ভূমিকম্পজনিত ক্ষয়ক্ষতি থেকে।