
published : ১ জানুয়ারি ২০২৬
সোনার দেশ গড়তে চাই শুদ্ধাচারী মানুষ; শুদ্ধাচারী মানুষই ভালো মানুষ।
পড়ুন বিশ্ব শুদ্ধাচার দিবস উপলক্ষে বিশেষ আর্টিকেল:
যাপিত জীবনের করণীয়-বর্জনীয়ের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সকল দিক-নির্দেশনা রয়েছে ধর্মে। আর ধর্মের ফলিত রূপ-ই শুদ্ধাচার। একজন মানুষ যদি ধর্মের বিধিবিধানগুলো যথাযথভাবে পালন করেন তাহলেই তিনি হবেন শুদ্ধাচারী মানুষ, ভালো মানুষ। শুদ্ধাচার এই ভালো মানুষেরই ভূষণ।
ভালো মানুষ কখনো দুরাচারী হতে পারে না। শোষণ জুলুম নিপীড়ন করতে পারে না। অন্যায় করতে পারে না। অন্যের হক নষ্ট করে না।
ব্যবহারিক জীবনে পালনীয় ও বর্জনীয় কাজ, যার প্রতিফলন পড়ে ধার্মিকের দৈনন্দিন জীবনের সকল কর্মকাণ্ডে- তার সবটার গ্রন্থিত রূপই হচ্ছে শুদ্ধাচার।
পড়ুন (আর্টিকেল) : শুদ্ধাচার সম্পর্কে গুরুজীর বাণী সংকলন!
গত ৩ দশকে আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে- এটা আমাদের জন্যে আনন্দায়ক। কিন্তু একই সাথে ভাববার বিষয় হলো, আমরা পিছিয়ে পড়ছি আচার আচরণ ও নৈতিকতায়। মনুষ্যত্ব ও মানবিকতায়। যার নিদর্শন পত্রিকার পাতা উল্টালেই পাওয়া যায়।
দুর্বলকে শোষণ করে শক্তিমান যারা, তারা যদি শুদ্ধাচারী হয় তাহলে শোষণের বদলে দুর্বলকে তারা নিরাপত্তা দেবে। কারণ শুদ্ধাচারী মানুষ জালিম হন না, হন রক্ষক। নিজের মতকে তারা যেমন সম্মান করেন, তেমনি সম্মান করেন আরেকজনের মতামতকে। ফলে মতের অমিল হওয়ার প্রতিক্রিয়া তারা শক্তি প্রয়োগ করে নয়, সমর্মিতার সাথে করেন। স্রেফ এই একটি গুণই পারে বর্তমান সময়ের জুলুম-নিপীড়ন অনেকাংশেই কমাতে।
একজন শুদ্ধাচারী মানুষ নিজের স্বার্থটাকে আগে রাখেন না, অন্যের স্বার্থে ভাগ বসানো তো দূর। ফলে অন্যের হক নষ্ট করে নিজে আঙুল ফুলে কলাগাছ তারা হবেন না এটাই স্বাভাবিক। এই একটি গুণ থাকলে বহুলাংশেই কমে যাবে দুর্নীতি, ভেজাল, দখলদারিত্ব, সিন্ডিকেটবাজি। পরিণামে দেশ এগিয়ে যাবে সমৃদ্ধির পথে।
আসলে সোনার দেশ গড়তে লাগে সোনার মানুষ। আর সোনার মানুষ গড়তেই এখন শুদ্ধাচারের চর্চা খুব প্রয়োজন।
পড়ুন (আর্টিকেল) : ভালো মানুষ ভালো দেশ, স্বর্গভূমি বাংলাদেশ!
আর তার অংশ হিসেবে ২০০৬ সাল থেকে মোট ১১ পর্বে পকেট ফোল্ডার আকারে প্রকাশ করেছে ‘শিষ্টাচার কণিকা’। তারপর একযুগেরও বেশি সময় ধরে পরিমার্জন ও পরিবর্ধনের পর ২০২০ সালের একুশের গ্রন্থমেলায় প্রকাশ করে ‘শুদ্ধাচার’ বই। যা ইতিমধ্যে পৌঁছে গেছে লাখো মানুষের হাতে।
অনলাইন পড়ুন শুদ্ধাচার বই
পরবর্তীতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর ও এর অধীন সকল অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের গ্রন্থাগারে বইটি রাখার নির্দেশনা জারি করে। ফলে শিক্ষার্থীদের জন্যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে শুদ্ধাচার শেখা।
শুদ্ধাচারকে ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতি বছরের ১ম শুক্রবার বিশ্ব শুদ্ধাচার দিবস পালনের। সেই হিসেবে আগামীকাল ২ জানুয়ারি ২০২৬ প্রথমবারের মতো পালিত হতে যাচ্ছে দিবসটি ‘শুদ্ধাচারী মানুষই ভালো মানুষ’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে।
২ জানুয়ারি ২০২৬ সকাল ৯-১০টা কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সকল সেন্টার/শাখা/সেলে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্ব শুদ্ধাচার দিবসের এক ঘণ্টাব্যাপি বিশেষ কার্যক্রম। এটি উন্মুক্ত প্রোগ্রাম, অংশ নিতে পারবেন সবাই।
সকল সেন্টার/শাখা/সেলের ঠিকানা পাবেন এই লিংকে
অনুষ্ঠানটিতে অংশ নিন সপরিবারে। কারণ শুদ্ধাচারী জাতি নির্মাণে শুদ্ধাচারের চর্চা শুরু হতে হবে পরিবার থেকে; ব্যক্তির শুদ্ধাচার চর্চার লালনভূমি তার পরিবার। পরিবারে শুদ্ধাচারের চর্চা শুরু হলে তা ছড়িয়ে পড়বে চারপাশে, সমাজে। তার শুভ প্রভাব পড়বে জাতীয় জীবনে। ব্যক্তি, পরিবার এবং সমাজ শুদ্ধাচারী হলেই দুর্নীতি ও অনাচারমুক্ত স্বপ্নের সোনার দেশ গড়ে উঠবে। সম্পদের সুষম বণ্টন হবে। সাধারণ মানুষ লাভবান হবে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অগ্রগতি থেকে।
তাই আসুন বিশ্ব শুদ্ধাচার দিবসে অঙ্গিকার করি শুদ্ধাচারী হওয়ার। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে শুদ্ধাচারের চর্চা করি। সন্তানকে ছোটবেলা থেকে শুদ্ধাচার শিক্ষা দেই। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন প্রকাশিত ‘শুদ্ধাচার’ বইটি রাখি ব্যক্তিগত গ্রন্থাগার, পড়ার টেবিল, কাজের ডেস্ক, হাতে কাছে। কারণ বর্তমান সময়ে শুধু শুদ্ধাচার নিয়ে একক গ্রন্থ সংকলন আমাদের জানামতে এই বইটি ছাড়া নেই আর একটিও!
সবাইকে বিশ্ব শুদ্ধাচার দিবসের প্রাণঢালা শুভেচ্ছা!