
published : ১৫ আগস্ট ২০২৬
সর্দিকাশি- অতি সাধারণ রোগ, অথচ নেই কোনো ভ্যাক্সিন! কেন জানেন?
কারণ রাইনোভাইরাসসহ সর্দিকাশির কারক ভাইরাসগুলোর আছে প্রায় ২৮০টি ভ্যারিয়েন্ট! যা ভ্যাক্সিন বানানোকে করে দিয়েছে দুষ্কর। তবে সুখবর হলো, প্রকৃতিতেই আছে এমন এক মহৌষধি ফল, যা ফুল সিজনে নিয়মিত খেলে সর্দিকাশি আপনার টিকিটিরও নাগাল পাবে না!
আর্টিকেলটির ভিডিও এডাপ্টেশন দেখুন : জাম্বুরার ৫টি অমূল্য গুণ! কিন্তু কাদের খাওয়া নিষেধ? বাতাবি লেবু খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা
জাম্বুরায় থাকা উচ্চমাত্রার ভিটামিন সি শ্বেত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে, যা জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করে সর্দিকাশি থেকে দেয় সুরক্ষা। তাই সিজনের শুরু থেকেই জাম্বুরা খেলে সর্দিকাশি থাকবে ১০০ হাত দূরে!
চীনে জাম্বুরা বা পোমেলোকে মনে করা হয় সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধির প্রতীক। চাইনিজ নববর্ষের ২য় দিন ঘটা করে জাম্বুরা খাওয়া চীনের হাজার বছরের ঐতিহ্য। কারণ বিশ্বের এই সর্ববৃহৎ সাইট্রাস ফলের আছে অসাধারণ সব গুণ।
যে ৫টি কারণে সিজনে জাম্বুরা হওয়া উচিৎ আপনার রোজকার খাবারের অংশ
ঘরে ঘরে এখন ক্যান্সার! অন্যতম প্রধান কারণ প্রক্রিয়াজাত খাবার বেশি বেশি খাওয়া। ক্যান্সার প্রতিরোধে তাই এগুলোর উত্তম বিকল্প খুঁজে নিতে হবে আপনাকেই! খেতে হবে এমনসব প্রাকৃতিক খাবার, যার মধ্যে লুকিয়ে আছে ক্যান্সার প্রতিরোধী উপাদান।
যেমন জাম্বুরা!
বিটা ক্যারোটিন, লাইকোপেন ও নারিনজিনসহ বেশ কিছু ক্যান্সার-রোধী উপাদান আছে জাম্বুরায়, ক্যান্সার মোকাবেলায় যার একেকটা কাজ করে একেকভাবে। যেমন- ‘নারিনজেনিন’ প্রোস্টেট ও প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সারের কোষ ধ্বংস করে এবং ফুসফুস ক্যান্সারের ছড়িয়ে পড়া ধীর করে দেয়।
হৃৎপিণ্ড সুস্থ রাখতে জাম্বুরার জুড়ি নেই! কারণ এতে আছে প্রচুর পটাসিয়াম, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। আর শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ধমনীতে চর্বি জমতে দেয় না। ফলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে যায় অনেকটাই।
৬৯,৬২২ জনের উপর পরিচালিত গবেষণায় নিয়মিত ফ্ল্যাভোনন গ্রহণে স্ট্রোকের ঝুঁকি ১৯% পর্যন্ত কমতে দেখা গেছে। আর এই ফ্ল্যাভোননই আছে জাম্বুরায়!
তাই সবচেয়ে কম খরচে হৃদরোগ প্রতিরোধ করতে চাইলে খাবারের তালিকায় রাখুন জাম্বুরা!
জাম্বুরা খুবই কম ক্যালরিযুক্ত খাবার। এর উচ্চমাত্রার ফাইবার ও প্রোটিন দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে। মানে জাম্বুরা খেয়ে পেট ভরবে ঠিকই, কিন্তু ক্যালরি ঢুকবে কম!
আসলে বাড়তি ওজনসহ অনেক ব্যাধিরই গোড়ার কারণ মেদ। মেদকে বলতে পারেন লিভারের ‘হাতের পাঁচ’; খাবারের মাধ্যমে শরীরে ঢোকা পুষ্টির বাড়তি অংশকে লিভার ফ্যাট বা মেদচর্বি আকারে জমা করে, যাতে ভবিষ্যতে কখনো খাদ্য সংকট হলে সেটাকে পুড়িয়ে শক্তি উৎপাদন করতে পারে। খাদ্য সংকটও হয় না, মেদও পোড়ে না!
তাই ওজন কমাতে হলে কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার মতো লিভারকে দিয়েই পোড়াতে হবে মেদ। আর কাজটা জাম্বুরা করতে পারে খুব ভালোভাবে! এর নারিনজিন লিভারকে বাধ্য করে মেদ পুড়িয়ে শক্তি উৎপাদনে। পরিণামে মেদও পোড়ে, ওজনও কমে!
ডায়াবেটিসকে বলতে পারেন ‘ব্যাধিরাজ’! কারণ এই একটি রোগ থাকলে আর কিছু লাগে না! হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, কিডনি ড্যামেজসহ মারাত্মক অনেক ব্যাধির ঝুঁকি বেড়ে যায় অনেকখানি।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যে জাম্বুরা এক আশীর্বাদের নাম। কারণ এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স খুব কম- মাত্র ৩০! ফলে এটি একদিকে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যে নিরাপদ। অন্যদিকে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমিয়ে সুগার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কমায় ডায়াবেটিসের ঝুঁকি।
বয়সের আগেই বুড়িয়ে যাচ্ছেন? অ্যান্টি-এজিং কসমেটিকসের পেছনে কাড়ি কাড়ি টাকা না ঢেলেও বার্ধক্যের গতি রুখতে পারেন আপনি।
জাম্বুরা খান! কমলার চেয়েও সস্তায় পাবেন বেশি ভিটামিন সি। এক কাপেরও কম জাম্বুরা থেকেই মিটবে আপনার দৈনিক ভিটামিন সি’র চাহিদার শতভাগ। আর এই ভিটামিন সি উৎপাদন করে ‘কোলাজেন’, যা ত্বকে ভাঁজ পড়া রোধ করে এবং ত্বককে করে টানটান, উজ্জ্বল ও বয়সের ছাপমুক্ত।
কোলাজেন আপনি নামীদামী ব্র্যান্ডের ময়েশ্চারাইজার, সেরাম আর মাস্কেও পাবেন; তবে তার চেয়ে জাম্বুরা কতটা সস্তা আর নিরাপদ তা নিজেই বুঝুন!
জাম্বুরায় এমন একটি উপাদান আছে, যা এমনিতে ক্ষতিকর না হলেও কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ ও এলার্জির ওষুধের সাথে মিলিত হলে শরীরে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই যারা এগুলোর জন্যে নিয়মিত ওষুধ খান, তারা জাম্বুরা খাওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
আসলে প্রকৃতিতে রোগবালাই আছে, প্রকৃতিতেই আছে এর প্রতিষেধক। তার একটা অংশ দেশজ ফলের ভেতর। চিনে-জেনে সঠিকটা খেলেই হলো!