সুপারফুড মিষ্টি আলু- মারণব্যধির যম!

published : ৪ জুন ২০২৬

মিষ্টি আলু! পুষ্টিগুণের কারণে বিজ্ঞানীরা যাকে বলছেন ‘সবচেয়ে নিখুঁত প্রাকৃতিক খাবার!’ NASA তো একে অন্তর্ভুক্ত করেছে মহাকাশচারীদের Space Food-এর মধ্যে! কারণ ছোট্ট একটি মিষ্টি আলুতেই আছে অনেক পুষ্টি- ভিটামিন এ, বি-৬ ও সি, ফাইবার, ম্যাঙ্গানিজ, পটাশিয়াম, বিটা-ক্যারোটিন ইত্যাদি। তাই নিয়মিত মিষ্টি আলু খেলে দূরে থাকবে মারাত্মক সব ব্যধি, যেগুলোতে প্রতিবছর আমাদের দেশে মারা যায় লক্ষ লক্ষ মানুষ।        

১. ক্যান্সার 

বাংলাদেশে বর্তমানে ১২-১৫ লক্ষ ক্যান্সার রোগী রয়েছে। প্রতিবছর প্রায় ১ লক্ষ ১৬ হাজার মানুষ মারা যায় ক্যান্সারে, যা মোট মৃত্যুর ১২%! ক্যান্সার মোকাবেলায় মিষ্টি আলু ভূমিকা রাখতে সক্ষম। 

এটি ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়ে মূলত তিনটি অস্ত্র নিয়ে-

এক. বিটা-ক্যারোটিন। শক্তিশালী এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ফুসফুস, পাকস্থলী এবং স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।

দুই. অ্যান্থোসায়ানিন। এটি ক্যান্সার কোষকে নিজে থেকেই ধ্বংস হয়ে যেতে বাধ্য করে এবং ক্যান্সার কোষের সংখ্যা বৃদ্ধি বা ছড়িয়ে পড়া রুখে দেয়।  

তিন. স্পোরামিন। এই বিশেষ প্রোটিন কোলন ক্যান্সারের কোষ ধ্বংস করতে পারে।

২. হৃদরোগ 

হৃদরোগ হলো বিশ্বের এক নম্বর ঘাতক ব্যধি! বাংলাদেশে প্রতি বছর ২ লক্ষাধিক মানুষ মারা যায় হৃদরোগে। এই পরিসংখ্যান বদলে দিতে পারে মিষ্টি আলু! 

যুক্তরাষ্ট্রের National Institute of Health বলছে, মিষ্টি আলুর পটাশিয়াম উচ্চ রক্তচাপ স্বাভাবিক করে স্ট্রোকের ঝুঁকি ২৪% পর্যন্ত কমাতে পারে। আর এই পটাশিয়ামই পর্যাপ্ত আছে মিষ্টি আলুতে। 

এছাড়াও আছে ভিটামিন B6, যা হোমোসিস্টাইন (Homocysteine) নামক রক্তনালীতে ব্লক সৃষ্টিকারী অ্যামিনো অ্যাসিডের মাত্রা কমায়। যা ভূমিকা রাখে হৃদরোগ প্রতিরোধে।

এসব কারণে মিষ্টি আলুকে বলা হয় হৃদবান্ধব খাবার! 

৩. ডায়াবেটিস

অনেকের ধারণা মিষ্টি আলু স্বাদে মিষ্টি বলে ডায়াবেটিসে ক্ষতিকর। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা!

যেসব খাবারের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৫৫-এর নিচে সেগুলো ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যে মোটামুটি নিরাপদ। সেদ্ধ মিষ্টি আলুর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স মাত্র ৪৪-৪৬!  

এছাড়া, মিষ্টি আলুর ‘পেকটিন’ নামক বিশেষ ফাইবার অন্ত্রে শর্করার শোষণ ধীর করে দেয়। ফলে রক্তে গ্লুকোজ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার সুযোগ পায় না।

আরও চমকপ্রদ তথ্য হলো, মিষ্টি আলুতে আছে ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড, যা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমানোর মাধ্যমে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করে।

৫. ফ্যাটি লিভার

ফ্যাটি লিভার সমস্যা এখন ঘরে ঘরে! ফ্যাটি লিভার হলো লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমা হওয়া। এটি লিভারের কোষগুলোতে প্রদাহ সৃষ্টি করে, যা স্থায়ী দাগ (ফাইব্রোসিস), সিরোসিস, লিভার ফেইলিওর এবং এমনকি লিভার ক্যান্সারের মতো মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।

মিষ্টি আলুর ফাইবার ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট লিভারের প্রদাহ কমায় বিধায় ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে এটি বিশেষ উপকারি।

৫. আলঝেইমার, হান্টিংটন ও পারকিনসন্স

স্মৃতিশক্তির জন্যেও দারুণ উপকারি মিষ্টি আলু! বেগুনি রঙের মিষ্টি আলুতে থাকা অ্যান্থোসায়ানিন মস্তিষ্কের নিউরোনকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে, যা আলঝেইমার, হান্টিংটন ও পারকিনসন্স ডিজিজের মতো স্মৃতিক্ষয়ী রোগগুলোর অগ্রগতি ধীর করে দিতে পারে

এছাড়াও, স্মৃতিশক্তি ও ব্রেনের কার্যকারিতা বাড়ায় এবং ব্রেন সেলকে সুরক্ষা দেয় অ্যান্থোসায়ানিন।   

৬. অকাল অন্ধত্ব

ভিটামিন-এ এর অভাবে প্রতিবছর আমাদের দেশে প্রায় ৫ লাখ শিশু রাতকানা রোগে ভোগে এবং তাদের মধ্যে ৩০ হাজার শিশু বরণ করে অন্ধত্ব। অথচ রোজ মাত্র ১২৫ গ্রাম মিষ্টি আলু থেকেই মিটতে পারে একজন মানুষের দৈনিক ভিটামিন-এ’র চাহিদা!

মিষ্টি আলুর বিটা-ক্যারোটিন চোখের রেটিনায় রডোপসিন তৈরিতে সাহায্য করে। এই রডোপসিনের ঘাটতিতেই রাতকানা রোগ হয়। 

এছাড়াও, Science Daily-তে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদন বলছে, বিটা-ক্যারোটিন, ভিটামিন সি ও ই এবং জিঙ্কসমৃদ্ধ খাবার ম্যাকুলার ডিজেনারেশন— অর্থাৎ বয়সজনিত অন্ধত্বের ঝুঁকি কমায় প্রায় ৩৫%!

কীভাবে খাবেন?

সেদ্ধ করে বা পুড়িয়ে স্ন্যাক্স হিসেবে খেতে পারেন। তবে আধাসেদ্ধ খেলে বেশি পুষ্টি পাবেন।

খোসা ফেলবেন না। কারণ ভেতরের অংশের চেয়েও খোসায় ভিটামিন সি, প্রোটিন, পলিফেনল ও অ্যান্থোসায়ানিনের পরিমাণ বেশি! আর ফ্ল্যাভোনয়েডের পরিমাণ প্রায় ৩ গুণ!  

এছাড়াও আছে প্রচুর পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার, পটাশিয়াম ও আয়রন। 

 

শুধু রোগ প্রতিরোধকই না, মিষ্টি আলু হতে পারে দারুণ কস্ট সেভারও! 

ফুল সিজনে প্রতি কেজি মিষ্টি আলুর দাম মাত্র ২৫-৩০ টাকা! তাই ৭৫-৮০ টাকা কেজি দরে কেনা চাল ২৫% কমিয়ে যদি মিষ্টি আলু খান তাহলেই বেঁচে যাবে আপনার খাবার খরচের একটা অংশ। বাড়তি পুষ্টিযোগ তো আছেই!