published : ৩০ আগস্ট ২০২৬
স্ট্রেস বা মানসিক চাপ থেকে যে অ্যালার্জি হতে পারে তা কি আপনি জানতেন?
আর্টিকেলটির ভিডিও এডাপ্টেশন দেখতে এই লিংকে ক্লিক করুন
অ্যালার্জির এমনই জানা-অজানা নানা কারণ, প্রতিকার ও প্রতিরোধ জানবেন আজকের আর্টিকেলে। সাথে খুব সহজ একটি hack, যা করে খাবারের অ্যালার্জিতে পাবেন তাৎক্ষণিক স্বস্তি।
বেগুন, চিংড়ি বা ইলিশ মাছ খেলে কারো কারো অ্যালার্জি হয়। ঠান্ডা, ধুলাবালি, ওষুধ বা কাপড় থেকেও হতে পারে।
আমাদের শরীরে ক্ষতিকর পদার্থ প্রবেশ করলে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ইমিউন সিস্টেম সেটাকে ধ্বংস করে আমাদের সুরক্ষা দেয়। কিন্তু কখনো কখনো ইমিউন সিস্টেম ক্ষতিকর নয়- এমন বস্তুর ব্যাপারেও অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে ওঠে এবং একে ক্ষতিকর বস্তু বলে চিহ্নিত করে তা ধ্বংসের জন্যে এন্টিবডি তৈরি করে রাখে। এই বস্তুগুলোকে বলা হয় এলার্জেন।
পরবর্তীতে কখনো দেহে সেই এলার্জেন প্রবেশ করলে এন্টিবডি তাকে ধ্বংস করার উদ্যোগ নেয়। এই প্রক্রিয়ায় শরীরে নির্গত হয় বিশেষ ধরনের কেমিকেল। চুলকানিসহ নানান অ্যালার্জি প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এসব কেমিকেলের প্রভাবেই।
যেমন- হিস্টামিন নামক কেমিকেল নির্গত হলে সেটা নাকের ভেতরের আবরণকে বেশি পরিমাণে শ্লেষ্মা তৈরিতে বাধ্য করে। ফলে হাঁচিকাশি হয়, নাক দিয়ে পানি পড়ে।
*ডাস্ট অ্যালার্জি ধুলাবালির কারণে হয় এবং এর ফলে দেখা দেয় নাক ও চোখ চুলকানো ও পানি পড়া, শরীরে লাল র্যাশ, চোখ ফুলে যাওয়া, কাশি।
*কোল্ড অ্যালার্জি হয় ঠান্ডা আবহাওয়া বা এসির বাতাসের কারণে। এর ফলে নাক দিয়ে পানি পড়া, হাঁচি হতে পারে।
*অনেকের আছে ফুড অ্যালার্জি- খাবার থেকে হয় এবং প্রতিক্রিয়ায় হতে পারে চুলকানি, র্যাশ, জিভ ঠোঁট মুখমণ্ডল ও গলা ফুলে যাওয়া, পেট ব্যথা, বমি, ডায়রিয়া ইত্যাদি।
*কারো কারো পেনিসিলিন, পেইনকিলার, প্রেশারের ওষুধ ইত্যাদির কারণে হয়- এটা ড্রাগ অ্যালার্জি। র্যাশ, চুলকানি, শরীরে পানি জমা, ঠোঁট জিভ চেহারা ফুলে ওঠা এর প্রধান লক্ষণ
এছাড়াও, অ্যালার্জির গুরুত্বপূর্ণ একটি কারণ, যা ৯০% মানুষই জানে না, তা হলো ক্রনিক স্ট্রেস! গবেষণায় দেখা গেছে, স্ট্রেসে ভুগলে শরীরে হিস্টামিনের লেভেল বাড়ে, যার পরিণাম অ্যালার্জি।
শুধুমাত্র ওষুধ দিয়ে অ্যালার্জি শতভাগ নিরাময়যোগ্য নয়। তবে এটি প্রতিরোধে কিছু পদক্ষেপ আপনি নিতে পারেনঃ
ফুড ও ড্রাগ এলার্জিঃ একই খাবার বা ওষুধ থেকে সবার অ্যালার্জি হয় না। কোনটি খেলে আপনার অ্যালার্জি হয় তা নোট করে রাখুন এবং এড়িয়ে চলুন। ওষুধের ক্ষেত্রে ডাক্তারের সাথে কথা বলে ওষুধ বদলান।
খাবারের অ্যালার্জিতে স্বস্তি পাওয়ার ঘরোয়া একটি টেকনিক হলো মালিশ! হাঁটুর পেছনের ভাঁজের মাঝামাঝি জায়গায় তর্জনি দিয়ে হালকা চাপ দিন, আঙ্গুলের ডগাকে নাড়তে বা ডান থেকে বামে ঘুরাতে থাকুন। কিছুক্ষণ পর দেখবেন অস্বস্তি কমে গেছে।
ডাস্ট অ্যালার্জি প্রতিরোধে মাস্ক খুবই কাজের একটি জিনিস। ঘর পরিষ্কার করা সময় ও ধুলাবালিযুক্ত পরিবেশে গেলে অবশ্যই মাস্ক পরিধান করুন। সেই সাথে ঘর ও পরিমণ্ডলকে রাখুন ধুলাবালিমুক্ত।
কোল্ড অ্যালার্জি প্রতিরোধে এসির বাতাস ও ঠান্ডা আবহাওয়া থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখুন
এছাড়া, পোষা প্রাণী, পতঙ্গ, বিশেষ কাপড়, ফুলের রেণু- অর্থাৎ যেটার ব্যাপারে আপনি অ্যালার্জিক সেটা থেকে দূরে থাকুন
ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী হলে তা অ্যালার্জির বিরুদ্ধে ফাইট করবে। এজন্যে
১. পুষ্টিকর ও প্রাকৃতিক খাবার যেমন- তাজা শাকসবজি, ফলমূল, রসুন, কালোজিরা, মধু ইত্যাদি খান। সকালে আধঘণ্টা রোদে থাকুন। বর্জন করুন ফাস্টফুড চিনি ও চিনিজাতীয় সকল খাবার
২. প্রতিদিন আধঘণ্টা ঘাম ঝরানো ব্যয়াম করুন। সর্বাঙ্গাসনসহ যোগব্যায়ামের আসনগুলোই এক্ষেত্রে সেরা
৩. ব্রিদিং এক্সারসাইজ বা দমচর্চা- কীভাবে ও কতক্ষণ করবেন জানতে এই ভিডিওটি দেখুন
৪. মেডিটেশনঃ মেডিটেশন দু’ভাবে অ্যালার্জি প্রতিরোধ করে- ইমিউন সিস্টেমকে জোরদার করা এবং মনকে স্ট্রেস বা চাপমুক্ত করা
আসলে অ্যালার্জি হওয়ার পর ওষুধ সেবনের চেয়েও ভালো অ্যালার্জি প্রতিরোধ। তাই পুষ্টিকর খাবার, ব্যায়াম ও দর্মচর্চার পাশাপাশি নিয়মিত মেডিটেশন করাকে পরিণত করুন আপনার রোজকার অভ্যাসে।