
published : ১১ অক্টোবর ২০২৬
আর্টিকেলটির ভিডিও এডাপ্টেশন দেখতে এই লিংকে ক্লিক করুন
দেশি সবজি নিয়ে অনেকেরই অনীহা কাজ করে। ব্রকলি, অ্যাসপারাগাসের মতো বিদেশি সবজির কদরই যেন বেশি। অথচ অত্যধিক দাম দিয়ে কেনা এসব সবজির চেয়েও বেশি পুষ্টি রয়েছে আমাদের অনেক দেশি সবজিরই। অথচ দাম বিদেশি সবজির চেয়ে অনেক কম।
অ্যাসপারাগাস ইউরোপ-আমেরিকায় ‘সুপারফুড’ হিসেবে পরিচিত একটি সবজি। এদেশেও এখন জনপ্রিয়, তবে দাম আকাশছোঁয়া- প্রতি কেজি ৮০০-১,০০০ টাকা বা তারও বেশি দরে বিকোয় নামীদামী সুপারশপগুলোতে। এই অ্যাসপারাগাসের সাথে আমাদের দেশি সবজি কচুর লতির কিছুটা সাদৃশ্য রয়েছে।
কচুর লতি গ্রাম বাংলার মাঠেঘাটে অযত্নে জন্মায় আর দামে সস্তা বলে একে আমরা পাত্তাই দেই না। অথচ পুষ্টিবিদরা কী বলছেন জানেন? সেরা পুষ্টিটা নাকি লুকিয়ে আছে অবহেলিত এই কচুর লতিতেই!
অ্যাসপারাগাসে ক্যালরি কিছুটা বেশি হলেও ফাইবার, আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, ভিটামিন সি সবই বেশি কচুর লতিতে। অথচ দাম? অ্যাসপারাগাসের ১০ ভাগের ১ ভাগ মাত্র- প্রতি কেজি ৮০-১০০ টাকা! কোথাও কোথাও এরও কমে মেলে।
কিন্তু শুধু দামে সস্তা বলেই তো কচুর লতি খাবেন না! তাহলে খাবেন কেন?
হজমশক্তি নিয়ে অসুবিধায় ভোগেন এমন মানুষ সংখ্যায় কম না! কারণ প্রক্রিয়াজাত খাবারের ভিড়ে প্রাকৃতিক খাবার হারিয়ে যাওয়া। অথচ হজমের জন্যে প্রয়োজনীয় ডায়েটারি ফাইবার বা খাদ্য আঁশ মিলবে এসব প্রাকৃতিক খাবারেই।
পর্যাপ্ত ফাইবারসমৃদ্ধ একটি সবজি কচুর লতি। এর ডায়েটরি ফাইবার গাট হেলথকে চাঙ্গা করে। এতে হজমশক্তি বাড়ে, দূর হয় কোষ্ঠকাঠিন্য।
রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন? কচুর লতিতে পাবেন সমাধান! কারণ এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, অ্যাসপারাগাস এবং ব্রকলির চেয়েও অনেক বেশি। রক্তাল্পতা দূর করতে এবং শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে এই আয়রন।
কচুর লতি যেন ক্যালসিয়ামের জীবন্ত খনি! হাড় ও দাঁত মজবুত রাখতে ভূমিকা রাখে এই ক্যালসিয়াম।
হৃৎপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে অতীব প্রয়োজনীয় একটি উপাদান হলো পটাশিয়াম, কচুর লতিতে যা আছে পর্যাপ্ত পরিমাণে। এটি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে দারুণ কার্যকর। তাই হার্ট সুস্থ রাখতে নিয়মিত পাতে রাখুন কচুর লতিসহ পটাশিয়ামসমৃদ্ধ প্রাকৃতিক খাবার।
রোগ হওয়ার পর ট্রিটমেন্ট বা নিরাময় উদ্যোগের চেয়ে ভালো হলো রোগ প্রতিরোধ। আর রোগ প্রতিরোধের জন্যে দরকার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে চাঙা রাখা। এমন কিছু প্রাকৃতিক খাবার- ফলমূল ও সবজি নিয়মিত খাওয়া যা এই ক্ষমতাকে জোরদার করে।
কচুর লতিতে রয়েছে পর্যাপ্ত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ত্বকের সতেজতা ও উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
বাড়তি ওজন মানেই রোগের বাড়তি ঝুঁকি। আর ডায়াবেটিস যে অনেক রোগেরই জননী তা তো আমরা জানিই। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বাড়তি ওজন কমানো প্লাস ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ- দুটোর সমাধান একত্রে মিলবে এমন কিছু কি আছে?
আছে! আর তা হলো কচুর লতি।
রোজকার খাদ্যতালিকায় রাখুন কচুর লতি। কারণ এতে ক্যালরির পরিমাণ খুবই কম। তাছাড়া এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যেও বেশ উপকারী।
বলবেন- সব তো বুঝলাম; কিন্তু সমস্যা একটাই- কচুর লতি খেলে যে গলা চুলকায়! এর জন্যে দায়ী লতিতে থাকা 'ক্যালসিয়াম অক্সালেট'।
নো টেনশন! লতি রান্নায় সামান্য একটু লেবুর রস, আমড়া বা তেঁতুল যোগ করুন। এতে ক্যালসিয়াম অক্সালেট শক্তি হারাবে, ফলে গলা আর চুলকাবে না।
কচুর লতি এখন সহজলভ্য, দামেও সস্তা। তাই বাজারের ব্যাগে একটুখানি জায়গা রাখুন কচুর লতির জন্যে। তাহলেই বাঁচবে খরচ; সেই সাথে বাড়বে সুস্থতাও।