নিয়মিত ব্যায়াম রোধ করবে আপনার ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি

published : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

শিক্ষাবিদ, লেখক ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের খ্যাতিমান অধ্যাপক ডা. শুভাগত চৌধুরী। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের সাবেক ডীন। সুস্বাস্থ্য, মেডিটেশন, সুস্থ জীবনাচার ও সঠিক খাদ্যাভ্যাস বিষয়ে নিয়মিত লিখছেন কোয়ান্টাম ওয়েবসাইটে।

 

হৃদযন্ত্র আর শ্বাসযন্ত্রের ব্যায়াম ক্ষুরধার রাখে মগজকে। আর বুদ্ধিবৃত্তির অধোগতি অনেকটাই নিবারণ করে। এমনকি দেয় নিশ্চিত প্রতিকার।

বিশ্বজুড়ে ৫৫ মিলিয়ন মানুষ ভুগছেন ডিমেনশিয়াতে। এর মধ্যে ১০ মিলিয়ন রয়েছেন অচিহ্নিত হয়ে আর মোট মৃত্যুর সংখ্যায় এর স্থান ৭ম।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি)-এর তথ্য অনুসারে ডিমেনশিয়ার চিহ্নিত ঝুঁকিগুলো হলো :

  • শরীরচর্চায় ঘাটতি
  • অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস
  • উচ্চ রক্তচাপ
  • শ্রুতিহানি
  • তামাক, অ্যালকোহল
  • জিনগতপ্রবণতা : কিছু লোকের এই জিনের নাম APOE-e4 gene

ড. ক্লেয়ার শেক্সটন। তিনি নিউরোসায়েন্টিস্ট এবং ডিমেনশিয়া বিষয়ক আধুনিক গবেষণার একজন পুরোধা বিজ্ঞানী। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আলঝেইমার’স অ্যাসোসিয়েশনের তিনি একজন সিনিয়র ডিরেক্টর। তিনি বলেন, ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা চলছে। জীবনে কিছু আচরণগত পরিবর্তন আনতে পারলে বুদ্ধিবৃত্তির অধোগতি হ্রাস করা যায়, এমনকি ডিমেনশিয়া কমানোও যায়। পৃথিবীতে ৪৫% ডিমেনশিয়ার পেছনে রয়েছে পরিবর্তনযোগ্য ঝুঁকি, যা দমানো সম্ভব। এমনকি যাদের আছে জিনগত ঝুঁকি, তাদেরও ডিমেনশিয়ার হার কমানো সম্ভব।

মূল যে বার্তা তা হলো, হৃদযন্ত্র আর শ্বাসযন্ত্রের ব্যায়াম করে সুস্থতা আনা। ব্যায়াম করে হৃদযন্ত্র আর শ্বাসযন্ত্রের পেশিতে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়িয়ে এই সুরক্ষার পথ হয় প্রসারিত। সাম্প্রতিক গবেষণায় এ বিষয়ে জোর দেয়া হয়েছে। আবার বিশেষ করে বৃদ্ধ লোকদের ক্ষেত্রে যাদের রয়েছে APOE-e4 gene তারাও পান সুফল। এই গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে ব্রিটিশ জার্নাল অব স্পোর্টস এসোসিয়েশনে।

বয়স্ক লোকদের মধ্যে, ট্রেডমিল টেস্ট ফিটনেস যাদের যত বেশি ভালো, তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক কুশল তত বেশি বলে প্রমাণিত হয়েছে। কার্ডিও রেসপিরেটির ফিটনেস যাদের দুর্বল তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক কুশল তত দুর্বল। কারণ এই ফিটনেস ভালো না থাকলে বাড়ে কার্ডিও-এম্বোলিজমের ঝুঁকি। আর বহু রকম অকার্যকারিতা হয় মগজে। হতে পারে সাবকর্টিকেল ডিমেনশিয়া। আর ধীর গতি ডিমেনশিয়ায় মগজের স্বাস্থ্য হয় বিঘ্নিত।

ঝুঁকি যা রয়েছে তার পরিবর্তন না করা হলে আলঝেইমারে ভোগার শঙ্কা বেড়ে যাবে বহুগুণ।

কী তাহলে করণীয় :

গবেষণার মুখপাত্ররা বলছেন, ছোট ছোট পরিবর্তন আনে সুফল যেমন :

  • নতুন নতুন কাজ ও দক্ষতা শিখে মগজকে চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলা
  • ব্লাডপ্রেসার আর সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা
  • যথেষ্টঘুম
  • স্বাস্থ্যকরআহার আর শরীরের ওজন ঠিক রাখা

তাই এক কথায় বলা যেতে পারে, ব্যায়াম হতে পারে বুদ্ধিবৃত্তির অবনতি ঠেকাতে বড় হাতিয়ার।